শিশু শিক্ষার ১০ কৌশল ও শিক্ষকদের করণীয়
শিশুদের শুধু বই পড়ানো বা পরীক্ষায় ভালো ফল করানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়; বরং শিশুর চিন্তা, ভাষা, আচরণ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশ ঘটানোই শিশু শিক্ষার মূল লক্ষ্য। শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ ও আগ্রহ বিবেচনা করে আনন্দময় ও কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
শিশু
যেন
বিদ্যালয়কে ভয়
বা
চাপের
জায়গা
মনে
না
করে।
শ্রেণিকক্ষে হাসি,
গল্প,
গান,
খেলাধুলা ও
বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের
মাধ্যমে আনন্দময় পরিবেশ
তৈরি
করতে
হবে।
শিক্ষককে হতে
হবে
শিশুর
কাছে
একজন
সহায়ক ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ।
ছোট
শিশুর
স্বাভাবিক শেখার
মাধ্যম
হলো
খেলা।
তাই
অক্ষর,
সংখ্যা,
শব্দ,
রং,
আকার
কিংবা
সাধারণ
জ্ঞান
শেখাতে
খেলাধুলা ও
বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম ব্যবহার করা
যায়।
যেমন—
- ছবি দেখে শব্দ বলা
- অক্ষর মিলানো
- সংখ্যা নিয়ে খেলা
- পাজল ও ব্লক ব্যবহার
শিশুরা
গল্প
শুনতে
ভালোবাসে। গল্পের
মাধ্যমে ভাষা,
নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ
ও
জীবনবোধ শেখানো
সহজ
হয়।
শুধু
বইয়ের
সংজ্ঞা
মুখস্থ
করানোর
পরিবর্তে শিশুর পরিচিত বাস্তব জীবনের উদাহরণ
ব্যবহার করা
বেশি
কার্যকর।
শিশু
যখন
প্রশ্ন
করে,
তখন
তার
কৌতূহল
ও
চিন্তাশক্তির প্রকাশ
ঘটে।
তাই
প্রশ্নকে বিরক্তিকর মনে
না
করে
শিক্ষককে উৎসাহ
দিতে
হবে।“এটা কেন?”, “কীভাবে?”,
“তুমি
কী
মনে
করো?”—এ ধরনের প্রশ্ন
শিশুর
যুক্তিবোধ ও সৃজনশীল চিন্তা
বাড়ায়।
সব
শিশু
একই
গতিতে
শেখে
না।
কেউ
দ্রুত
শেখে,
কেউ
একটু
সময়
নেয়;
কেউ
কথা
বলতে
ভালোবাসে, কেউ
চুপচাপ
থেকে
কাজ
করতে
পছন্দ
করে।
তাই
শিক্ষককে শিশুর
ব্যক্তিগত পার্থক্য ও সক্ষমতা বিবেচনা করতে
হবে।
দুর্বল
শিক্ষার্থীকে অপমান
বা
অন্যের
সঙ্গে
তুলনা
না
করে
সহায়তা
দিতে
হবে।
শিশুর
ছোট
সাফল্যও স্বীকৃতি দেওয়া
উচিত।
“তুমি
পারবে”,
“চেষ্টা
ভালো
হয়েছে”,
“আরেকবার চেষ্টা
করো”—এ ধরনের কথা
শিশুর
আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
তবে
অযথা
প্রশংসা না
করে
চেষ্টা, অগ্রগতি ও সঠিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট প্রশংসা করা
বেশি
কার্যকর।
বয়স
উপযোগী
ভিডিও,
ছবি,
অডিও,
অ্যানিমেশন ও
ইন্টার্যাকটিভ শিক্ষাসামগ্রী
শিশুর
শেখাকে
আকর্ষণীয় করতে
পারে।
তবে
প্রযুক্তি যেন
শিক্ষক
ও
বাস্তব
কার্যক্রমের বিকল্প
না
হয়ে
যায়।
প্রযুক্তি হবে শিক্ষার সহায়ক মাধ্যম, উদ্দেশ্য নয়।
শিশুকে
শুধু
পড়াশোনায় ভালো
করলেই
হবে
না;
তাকে
ভালো
মানুষ
হিসেবেও গড়ে
তুলতে
হবে।
ছোটবেলা থেকেই
শেখাতে
হবে—
- সত্য কথা বলা
- বড়দের সম্মান করা
- ছোটদের ভালোবাসা
- অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল
হওয়া
- দায়িত্বশীল
হওয়া
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
থাকা
- নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করা
শিশুর
উন্নয়নে শিক্ষক
ও
অভিভাবকের মধ্যে
সমন্বয়
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু
পরীক্ষার ফলাফল
নয়,
শিশুর
আচরণ, আগ্রহ, দুর্বলতা ও অগ্রগতি নিয়েও অভিভাবকের সঙ্গে
আলোচনা
করা
উচিত।
শিক্ষকদের করণীয়
শিশু
শিক্ষায় একজন
শিক্ষককে শুধু
পাঠদানকারী হিসেবে
নয়,
পরামর্শদাতা, পর্যবেক্ষক, অনুপ্রেরণাদাতা ও আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে
দায়িত্ব পালন
করতে
হবে।
একজন ভালো শিক্ষক—
- শিশুকে ভালোবাসবেন
ও
সম্মান করবেন।
- ধৈর্য ধরে শিশুর কথা শুনবেন।
- শিশুর প্রশ্নকে
গুরুত্ব দেবেন।
- ভয় নয়, উৎসাহ দিয়ে শেখাবেন।
- মুখস্থনির্ভর
শিক্ষার পরিবর্তে বুঝে শেখার সুযোগ তৈরি করবেন।
- দুর্বল শিক্ষার্থীকে
আলাদা সহায়তা দেবেন।
- শিশুর প্রতিভা ও আগ্রহ শনাক্ত করবেন।
- শ্রেণিকক্ষে
বৈষম্য করবেন না।
- নিজের আচরণের মাধ্যমে শিষ্টাচার
ও
নৈতিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করবেন।
- নিয়মিত নিজের শিক্ষাদান
পদ্ধতি পর্যালোচনা ও
উন্নত করবেন।
লেখক: মো: আরিফুল ইসলাম
সহকারি পরিচালক
তিনদিঘী, কাহালু, বগুড়া।
Comments
Post a Comment