Follow Me on Facebook

প্রয়োজন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি | আরিফুল ইসলাম

 

রাজনৈতকি দল একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক দলই পারে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। হউক সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক। একটি দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো রাজনৈতিক দল সেটি নয়, যে দল শুধু ক্ষমতায় যেতে চায়; বরং সেটি, যে দল ক্ষমতাকে জনগণের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে চায়।

বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং স্লোগানের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেবে।

১. গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নেতৃত্ব

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক দল ও নেতা, যারা— অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। জনগণের রায়কে সম্মান করেন, তা নিজের পক্ষে না গেলেও। বিরোধী দলকে শত্রু নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ মনে করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করেন। ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করেন।

মনে রাখতে হবে, ‘শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না; নির্বাচনের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, জবাবদিহি ও আইনের শাসনও নিশ্চিত করতে হয়।’

 

২. দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক দল

বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রয়োজন এমন নেতা, যিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য দেবেন না, নিজের দল ও ঘনিষ্ঠজনদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করবেন।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত হলো—

·       রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা।

·       সরকারি প্রকল্প ও কেনাকাটায় জবাবদিহি।

·       দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়সংগত বিচার।

·       সরকারি নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধার মূল্যায়ন।

·       দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার জন্য একই আইন।

‘কোনো নেতা নিজের বিরোধীদের দুর্নীতির বিচার করবেন, অথচ নিজের দলের দুর্নীতিকে আড়াল করবেন—এমন দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

 

৩. কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া

রাজনীতির সাফল্য শুধু সভা-সমাবেশ, জনপ্রিয়তা কিংবা উন্নয়নের প্রচারে নির্ধারিত হয় না। সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সহজ হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক দল, যারা—

·       শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয় শ্রেণির মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।

·       তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

·       দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করবে।

·       ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।

·       কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

·       বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করবে।

‘বিশেষ করে তরুণদের জন্য এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা জরুরি, যেখানে যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মূল্য থাকবে এবং চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ পেতে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নির্ভর করতে হবে না।’

 

৪. আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে ক্ষমতাবান ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। একজন যোগ্য রাজনৈতিক নেতা কখনোই বিচারব্যবস্থাকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

তাঁর নেতৃত্বে নিশ্চিত করতে হবে—

·       বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।

·       পুলিশের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা।

·       রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্বিচার গ্রেপ্তার প্রতিরোধ।

·       অপরাধের শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

·       অতীতের মানবাধিকার  লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি বিচার।

·       কেউ রাজনৈতিক দলের সমর্থক হলেই অপরাধী হয়ে যান না। আবার কোনো দলের নেতা হলেই অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না।

‘বিচার হতে হবে অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।’

 

৫. প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, রাজনৈতিক সহনশীলতা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এমন নেতা প্রয়োজন, যিনি বিরোধী মতকে সম্মান করবেন এবং রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমে করতে চাইবেন।

এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ:

·       রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করা।

·       রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হতে না দেওয়া।

·       ক্ষমতার পরিবর্তনকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা।

·       যে নেতা বিরোধী দলের অস্তিত্ব সহ্য করতে পারেন না, তিনি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পূর্ণ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নন।

·       বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করে ভালো উদ্যোগকে সমর্থন এবং ভুল সিদ্ধান্তের যৌক্তিক সমালোচনা করতে হবে।

৬. ধর্ম, সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা

বাংলাদেশের সমাজে ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা—

·       সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

·       ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।

·       ধর্মের নামে সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

·       নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবে।

·       ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’

 

৭. শিক্ষিত, দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তৈরি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে শুধু তরুণ হলেই কেউ যোগ্য নেতা হয়ে যান না। আবার বয়স বেশি হলেই কেউ অযোগ্য হয়ে যান না। একজন নেতার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে তাঁর সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও জনসেবার মানসিকতা দিয়ে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত—

·       নিজের সন্তান নয়, যোগ্য তরুণদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ দেওয়া।

·       নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

·       স্থানীয় পর্যায় থেকে নেতৃত্ব বিকাশ করা।

·       দলীয় মনোনয়নে যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া।

·       শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা।

‘একটি দল যদি শুধু  মাত্র এক/দুই জন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়, তাহলে সেই দল কখনো গণতান্ত্রিক নয়। তারা ক্ষমতায় এলে তাদের দ্বারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এরা রাষ্ট্র ও জনগনের দুষমন’

 

৮. রাষ্ট্রকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। অনেক সময় কোনো নেতার জনপ্রিয়তা এতটাই প্রাধান্য পায় যে দলের নীতি, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি পেছনে পড়ে যায়। কিন্তু একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু একজন নেতার ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

রাষ্ট্রকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়তে প্রয়োজন এমন নেতা, যিনি—

·       সংসদকে কার্যকর করবেন।

·       নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করবেন।

·       দুর্নীতি দমনকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবেন।

·       প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখবেন।

·       নিজের ক্ষমতার ওপরও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবেন।

‘সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক সেই ব্যক্তি, যিনি শুধু নিজের শাসনামল ভালো করার চেষ্টা করেন না; বরং তাঁর পরেও রাষ্ট্র যেন সঠিকভাবে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।’

 

৯. নেতার মধ্যে কী কী গুণ থাকা উচিত

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় একজন যোগ্য নেতার মধ্যে অন্তত ১০টি গুণ থাকা প্রয়োজন

১. সততা: ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে স্বচ্ছতা।

২. দেশপ্রেম: ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।

৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা: কঠিন পরিস্থিতিতে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

৪. জবাবদিহি: ভুল করলে তা স্বীকার করা এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া।

৫. সহনশীলতা: সমালোচনা গ্রহণ করা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করা।

৬. অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা।

৭. ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা: নিজের দল ও বিরোধী দলের জন্য একই আইনি মানদণ্ড মেনে চলা।

৮. মানবিকতা: দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা করা।

৯. দক্ষ দল গঠনের ক্ষমতা: নিজের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তিদেরও দায়িত্ব দেওয়ার মানসিকতা।

১০. ক্ষমতা ছাড়ার মানসিকতা: সাংবিধানিক নিয়ম ও জনগণের রায় অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

একজন নেতার বক্তৃতা যত সুন্দরই হোক, তাঁর বাস্তব কাজ যদি এই গুণগুলোর বিপরীত হয়, তাহলে শুধু বক্তৃতার ভিত্তিতে তাঁকে যোগ্য বলা যায় না।

 

১২. নাগরিকরা কীভাবে সঠিক রাজনৈতিক দল নির্বাচন করবে?

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক মূল্যায়নের জন্য নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

ভোট দেওয়ার আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন:

·       দলটি গত পাঁচ বা দশ বছরে কী করেছে?

·       তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা আছে কি?

·       দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তারা কি নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করেন?

·       দলটি বিরোধী অবস্থানে থাকলে যে অধিকার দাবি করে, ক্ষমতায় গেলে সেই অধিকার অন্যদেরও দেয় কি?

·       দলটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি?

·       তাদের কর্মী-সমর্থকদের সহিংসতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি?

·       দলটি ভুল করলে তা স্বীকার করে, নাকি সব সময় অন্যকে দায়ী করে?

·       ক্ষমতায় গেলে শুধু তাদের নেতা কর্মীদের ভাগ্যের  পরিবর্তন ঘটে? না, বরং রাষ্ট্রের নাগরিকদের আত্মসামাজিক পরিবর্তন ঘটে?

 

বাংলাদেশে আজ এমন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন যারা দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্যতা, সততা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে।

এমন নেতার প্রয়োজন নাই। যিনি শুধু নিজের অনুসারীদের ভালোবাসেন; প্রয়োজন এমন নেতার, যিনি নিজের সমর্থক ও বিরোধী—উভয়ের নাগরিক অধিকার রক্ষা করবেন।

এমন সরকারের প্রয়োজন যে নিজের ভুল সংশোধন করবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

আর এমন বিরোধী দলের প্রয়োজন যারা সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভালো নীতিকে সমর্থন করবে এবং নিজেদের বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু নতুন রাজনৈতিক দল নয়—প্রয়োজন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

যে সংস্কৃতিতে ক্ষমতা হবে দায়িত্ব, রাজনীতি হবে জনসেবা, আইন হবে সবার জন্য সমান এবং জনগণের অধিকার থাকবে সব দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে।




লেখক: আরিফুল ইসলাম

সহকারি পরিচালক

ইকরা মডেল একাডেমি।

এবং

সাবেক শিক্ষার্থী: রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।




Comments

```
```

তথ্যসূত্র ও প্রোফাইল